Friday, October 19, 2018

ভালোবাসার গল্প - রহস্য পর্ব 5/

1 comment

রহস্য (পর্ব -০৫)
লেখক- স্বপ্নীল শুভ্র
আশিকের মনে হলো এ আমি কি করলাম,
থাপ্পর টা নাও মারতে পারতাম,
মনটাই খারাপ হয়ে গেল,
আর ঘুম হলো না,ফ্রেস হয়ে কলেজে চলে আসলো,
ক্লাস চলতেছে,
আশিক বরাবরের মতো পেছনের সিটে বসে ক্লাস করছে,
মিম আড়চোখে চেয়ে আছে আশিকের দিকে তাকিয়ে,
আশিক খেয়াল করে দেখলো মিমেট গালটা ফুলে আছে,
মনে মনে ভাবলো আশিক, খুব জোড়েই লেগে গেছে,
এমন সময় সার আসলো,
সার এসে সবাইকে বসতে বললো,
তারপর বললো আশিক দুইদিন পর আমাদের কলেজের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাছ,
আমি চাই আমাদের ডিপার্টমেন্ট এর টিমের অধিনায়ক তুমি,
তাই তোমার যা যা লাগবে আমায় বলো,
আর সাকিব তুমি সহ অধিনায়ক।
সার এটা বলে চলে যাচ্ছিলো,
এমন সময় আশিক দাড়িয়ে সারকে বললো,১ মিনিট সার!
আমার কিছু বলার ছিলো,
হুম সার আসলে, আমি খেলতে পারবো না,
আশিকের কথা শুনে,
সার সহ ক্লাসের সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,
সার বললো কেন?
সার আসলে আমার মনটা ভালো না,
খেলার মানসিকতা আমার নাই,
সার কিছুটা অনুরোধ করলো,
কিন্তু আশিক কোনো কথা শুনলো না,
বললো সার আমি পারবো না,
ক্লাসের সবারি মন খারাপ হয়ে গেল,কারন সবাই ভেবেছিলো হয়তো এবার তাদের ডিপার্টমেন্ট চ্যাম্পিয়ন হবে,
কিন্তু সেই আসায় ঘুড়েবালি,
সার কিছু না বলে,
মন খারাপ করে চলে যাচ্ছিলো,
এমন সময় কেউ একজন সারকে ডাক দিল খুব জোড়ে,
সার থেমে গেল,
সবই তাকিয়ে দেখে,
মিম দাড়িয়ে আছে,
চোখ দিয়ে পানি পড়ছে,
সে সারকে বললো,
সার আশিক খেলবে,তাকে খেলতেই হবে,
মিমের কথা শুনে আশিক অবাক হয়ে গেল,
আর ক্লাসের সবাই অবাক হলেই অনেক খুশি হলো,
সার আশিক কে বললো, মিম কি ঠিক বলছে আশিক,
আশিক মিমের দিকে তাকিয়ে দেখে সে মিটিমিটি হাঁসছে,
মিমের হাঁসিটা দেখে আশিক সারকে আর না করতে পারলো না,
সার চলে গেল সবাই অনেক খুশিতে চিল্লাচিল্লি করছে,
মিম সিট থেকে উঠে আশিকে বললো ধন্যবাদ,
আর তুমি ছুটির পর বকুল তলায় আমার সাথে দেখা করবা,
আশিক হাঁ অথবা না কিছুই বললো না,
বাকি ক্লাস গুলো করে আশিক হোষ্টেলে চলে গেল,
গিয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে গেল,
সন্ধার দিকে ঘুম থেকে উঠার পর,
সার এসে বললো,আশিক তুমি এখনো এখানে বসে আছো?
কেন সার কি হয়েছে?
কি হবে, তুমি তো সবই জানো?
সার কি বলছে আশিকের মাথায় কিছুই ডুকছে না,
আশিক বললো,সার কি হয়েছে আমায় একটু বুঝিয়ে দেন?
কি আর হবে,তুমি কি তোমাকে ছাড়া আর কিআর কিছু বোঝো না।
মিমকে বাইরে দাড় করে রেখে দিছো কেন?
কোন মিম সার?
সার আশিক কে ধমক দিয়ে বললো,তুমি মিমকে চিনো না,
একসাথে পড়ো,তাও চিনো না,
আশিকের এতোক্ষনে মনে পড়লো,
মিম তো বলেছিলো,
ক্লাস শেষ করে ওর সাথে বকুল তলায় দেখা করতে!!!
সরি সার আসলে আমার মনে ছিলো না,
আপনি যান আমি যাচ্ছি ওর সাথে দেখা করতে,
সার বললো,মেয়েটা প্রায় তিন ঘন্টার মতো বৃষ্টিতে ভিজছে,
সার কথা শুনে আশিকের মনে কি রকম জানি মনে একটা ব্যাথার সৃষ্টি হলো,
তারতারি করে কোন কিছু খেয়াল না করেই সে চলে গেল ক্যাম্পাসের দিকে,দেখলো মিম বকুল তলায় বসে আছে,
মনে পিছন থেকে তাকিয়ে আশিক দেখছিলো,মনে হলো
একটা পরী বসে আছে,
একটু কাছে যাওয়ার পর দেখলো মেয়েটি শীতে কাপছে,
আশিকের দেখে খুব মায়া হলো,
আস্তে আস্তে সামনে গেল,
মিম নিচের দিকে তাকিয়ে আছে,
কি হয়েছে,প্রবলেম কি তোমার,এখানে বসে বসে ভিজছো কেন?
কি হলো কথা বলছো না কেন?
একটু ধমক দিয়েই বললো আশিক কথা গুলো,
মিম একটু ভয় পেয়ে গেল,
কি হলো কিছু বলো,
আমি তো তোমাকে বলছিলাম,
ক্লাস শেষ করে, আমার সাথে দেখা করতে,
কিন্তু তুমি আমার সাথে দেখা করলা না কেন?
কেন তোমার সাথে আমি দেখা করবো?
বলো কেন দেখা করবো?
কারন!!
কারন আমি তোমাকে,
আমি তোমায় ভা______
বলে থেমে গেল,,,
কি হলো বলছো না কেন?
মিম কথা টা ঘুরিয়ে বললো,
আমি তোমার সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু তুমি তো আসলে না,
কেন? আমার সাথে তোমার কি কথা,
এতোদিন তো জানতাম,
আমার ছায়টাও তোমার সহ্য হতোনা,
এখন আবার আমার সাথে কি কথা,
কেন কথা থাকতে পারেনা,
আশিক বললো না,
আচ্ছা তুমি কি বাসায় গিয়েছিলে?
না,
তাহলে কি কিছু খেয়েছিলে?
না।
বলো কি কথা বললা,
বলে তারাতারি বাসায় যাও,
মিম কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললো,
এখন আমি কথা বলতে পারছি না,
আমার খুব শীত লাগছে,
পরে বলবো।
পরেই যদি বলবা, তাহলে এতোক্ষন ধরে বৃষ্টিতে ভিজার কি ধরকার ছিলো।
মিমকে বল্লো,
আসো আমার সাথে,
মিম আস্তে আস্তে আশিকের সাথে আশিকের রুমে গেল,
ব্যাগ থেকে একটা শার্ট আর একটা প্যান্ট বের করে দিয়ে মিমকে বললো,যাও কাপড় গুলো চেন্জ করে আসো,
কি হলো যাও,
মিম গোসল করে আসার পর বললো,
আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে,
খাওয়ার জন্য কিছু হবে?
আশিক তাকিয়ে আছে, মিমের দিকে শার্ট পেন্টে মিমকে খুব ভালই মানিয়েছে,আর সাথে আছে ভেজা চুল!!!!
একদম আশিকের মনের মতো!!!
কি হলো হা করে কি দেখছো?
আশিক বললো ,হুম হবে।
তুমি থাকো আমি খাবার আনতেছি,
আশিক চলে গেল,
মিম আস্তে আশিকের পড়ার টেবিলের বই গুলো দেখতে ছিলো,সে খুব পুরানো একটা ডাইরি দেখতে পেল,
ডাইরিটা খুলতেই সে চমকে গেল?
সে ডাইরিটা নিজের ব্যাগে রেখে দিলো,
তারপর আশিক আসলো খাবার নিয়ে,
এসে বললো,এগুলো খেয়ে নাও!!
মিম বললো, আমি ক্ষেতে পারবো না,
কারন বৃষ্টিতে ভেজার ফলে,আমার হাত ঠান্ডায় জমে গেছে।
আশিক বললো,আজকে একটু কষ্ট করে খাও,
মিম খাবার সামনে নিয়ে বসে আছে,
আশিক দেখে খাবারের প্লেটটা হাতে নিয়ে বললো,
হা করো,আর এগুলো খেয়ে আমায় রক্ষা করো,
খাওয়া শেষের দিকে মিম ইচ্ছে করেই আশিকের হাতে কামড়ে দিলো,আশিক ব্যাথায় আউউউ করে উঠলো,
মিম এটা দেখে খিল খিল বাচ্চা মেয়েদের মতো করে হাঁসতেছে,
মিমের হাসি দেখে আশিকের অনেক ভালো লাগলো,
খাওয়া শেষ করে মিমকে বল্লো চলো তোমায় তোমার বাসায় দিয়ে আসি,কথাটা শুনে,
মিমর অনেক ভালো লাগলো!
মিম বল্লো আমি একাই যেতে পারবো,
আশিক ধমক দিয়ে বল্লো,
বেশি বোঝো কেন?
চলো আমার সাথে,রাত না হলে আর আমি তোমায় দিয়ে আসতাম না।
মিম মনে মনে বললো,তার জন্যই তো রাত করেছি,
আশিক মিমকে নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে,
একটা রিক্সা ডেকে,বললো মামা চলেন,
মিমকে বললো কি হলো উঠো না কেন?
নাকি কোলো করে তুলতে হবে,
মিম মনে মনে বললো,
আজকে না তুললেও ভবিষ্যতে ঠিকই তুলতে হবে,
আসলে আমার হাতে এখন শক্তি করতে পারছি না,
আশিক রিক্সায় উঠে বললো,
হাতটা দাও,
কি হলো দাও,আশিক মিমের হাতটা ধরে মিমকে রিক্সায় তুললো,
মিম মনে মনে ভাবছে আশিক তো আমার বাসার ঠিকানা জানে কেমনে,এটা ভাবতে ভাবতে আশিকের কথায় মিমের ধ্যান ভাংলো,
রাখেন মামা,এখানেই রাখেন!!
কি হলো নামো,
ও তুমাকে তো,
হাত দাও, মিমের হাত ধরে মিমকে নামিয়ে দিয়ে বল্লো যাও,
মিম আশিক কে থ্যাংকস দিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে চলে যাচ্ছিলো,
এমন সময় আশিক মিমকে ডাক দিলো,
বললো এদিকে আসো?
মিম মনে মনে বলে খুব খুশি হলো,
সে আশিক হয়তো তাকে ভালোবাসার কথা বলবে,
আশিক বললো,
কি তুমি কি ভাবছো?আমি কিছু জানি না?
আমার ডাইরিটা দিয়ে যাও,
মিম জিহ্বায় কামুড় দিয়ে বললো,
সরি!!!
এই নাও তোমার ডাইরি!!!
ডাইরিটা দিয়ে মিম চলে যাচ্ছিলো,
মিম কে আবার ডাক দিয়ে বল্লো,
জানো মিম তোমার সব প্রশ্নের উত্তর এই ডাইরিটায় ছিলো,
কিন্তু তোমার ব্যাটলাক!!!!!!
আজকের মতো শেষ,,,,,,,,,

1 comment :

  1. আরো নতুন নতুন Golpo পড়তে ভিজিট করুন
    www.valobasargolpo2.xyz

    ReplyDelete