Friday, October 19, 2018

ভালোবাসার গল্প - রহস্য পর্ব 7/

1 comment

রহস্য (পর্ব -০৭)
লেখক- স্বপ্নীল শুভ্র।
আমি টিফিন এর বাটি,
চিরকুট আর পান্জাবী টা নিলাম,
মনে মনে ভাবতেছি,
এগুলো আবার কে পাঠালো আমার জন্য,
ভাবতে ভাবতে আমি টিফিনের
বাটি টা খুললাম,
ইসসস,
আমার প্রিয় বিরিয়ানী!
আমি কোনো কিছু চিন্তা না করে বিরিয়ানী খাওয়া শুরু করে দিলাম।
খাওয়া শেষ করে,
আশিক যখন শুয়ে পড়বে,
তখন তার মনে পড়লো পান্জাবী আর চিরকুট টার কথা,
আশিক চির কুট টা পড়া শুরু করলো_____
জানো অনেক কষ্ট করে নিজের হাত পুড়িয়ে তোমার জন্য রান্না করেছি,
প্লিজ খেয়ে আমাকে জানাবে কেমন হয়েছিলো আমার
জীবনের প্রথম রান্না!
আর নীল পান্জাবী তা তোমার জন্য আজকে কিনেছি,
এটা পড়ে কালকে তুমি আমার সাথে দেখা করতে আসবা।
প্লিজ আবার না করো না।
আমি কালকে সকাল ১০ টায় তোমার জন্য অপেক্ষা করবো,
ডিসি লেক এ______
পরের দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি ১০ টা বাঁজে!
আশিকের মনে পড়লো, মিম তার জন্য ওয়েট করেতেছে,
আশিক শুধু ফ্রেস হয়ে না খেয়েই চলে যায় নীলাম্বরী রেস্টুরেন্টে!
গিয়ে দেখে মিম বসে আছেই,
আশিক আস্তে আস্তে গিয়ে মিমের সামনে গিয়ে বললো,
বসতে পারি!
হুম বসো।
এতোদেরি করে আসলো কেন?
আসলে ঘুম থেকে দেরিতে উঠেছি,
তার জন্য আসতে দেরি হলো,
আশিক বসার পর,
মিম খেয়াল করলো,আশিক তার দেওয়া নীল পান্জাবী টা পড়ে নাই!
এটা দেখে মিমের কিছুটা কষ্ট হলো!
আমাকে কেনো ডেকেছো?
এমনেই ডেকেছি,তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছিলো,
তাই তোমাকে এখানে ডেকেছি!
কথা টা শুনে আশিকের মাথা টা গরম হয়ে গেল,
রাগটা চেপে রেখে মিমকে বললাম,
শুনো মিম তুমি আমাকে চিনো না কিন্তু,
আর আমাকে তুমি ভালো বলার মতো কোনও কারন নেই,
তুমি সেইদিন আমাকে বলেছো তুমি আমাকে ভালোবাসো!
তাতে আমি তোমাকে কিছু বলি নাই,
কারন কাউকে ভালোবাসাটা একান্ত নিজের ব্যাক্তিগত ব্যাপার!
কিন্তু তুমি আমাকে ভালোবাসে, বলেই যে আমাকে বাধ্য করবে তোমাকে ভালোবাসতে এটা আমি মেনে নিব না!
তুমি কাউকে ভালবাসলে এর
বিনিময়ে কি তার কাছে থেকে
তোমার ভালোবাসা পাওয়া টা
জরুরী?
_______না তোমার ভালোবাসা যদি
সত্যি হয় তা হলে নিশ্চয় তা
তোমার জন্য জরুরী হবে না।
কারণ ভালোবাসা কোন ব্যবসায়ীক
লেনদেন নয় যে তুমি তার বিনিময় মূল্য পাবে!
আমি শুধু আজকে এখানে এসেছি,
শুধু তোমার ভালোবাসাকে সম্মান করেছি বলে,
নয় আমি কখনোও এখানে আসতাম না।
কিন্তু যদি এর পরও কখনো এরোকম করো তাহলে
আমি এই কলেজ থেকে টিসি নিয়ে চলে যেতে বাধ্য হবো।
কথাগুলো বলে আমি মিমকে বললাম,
আশা করি আমি যা বলেছি, তুমি বুঝতে পেরেছো!
ওইখান থেকে চলে আসার সময়, খেয়াল করে দেখলাম,
মেয়েটির চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে________
আমি আর কোন কিছু না ভেবে চলে আসলাম,
দেখতে দেখতে সেমিষ্টার ফাইনাল পরিক্ষা চলে আসলো,
সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করেছে,
কাউকে এখন আর বই ছাড়া দেখা যায় না হোস্টেলের,
কিন্তু আমি এখনো আগের মতই আছি,
১০ টা পর্যন্ত ঘুমাই!
সবাই আমাকে বলো,
কি আশিক এখন তো একটু পড়াশোনা করবে,
না হলে ড্রপ আউট হতে বেশি দেরী লাগবে না।
আমি কিছু না বলে,
বরাবরের মতোই চুপ রইলাম!!
পরিক্ষার রুটিন টা আজকে নিয়ে আসলাম,
যাক ভালোই হলো,
বিকালে পরিক্ষা।
আমার আর ঘুমের প্রবলেম হবে না।
কালকে পরিক্ষা, বিষয় টা একটু কঠিনই।
আমার কিছু কাজ সেরে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে অনেক আগেই,
কারো কারো পড়ার শদ্ব শুনা যাইতেছে,
আর আমি এখন ঘুমাতে যাচ্ছি,
বিষয়টা আমাকে একটু হাসালো।
ঘুম থেকে উঠলাম ১২:০০ টার দিকে!!
আমার ঘুম থেকে উঠা দেখে অনেক এ হাঁসলো।
আর হাঁসাটাই স্বাভাবিক,
কারন আজকের পরিক্ষার জন্য কেউ কেউ
হয়তো না খেয়ে পড়াশুনায় লেগে গেছে,
আমি কিনা পরিক্ষার দিন ঘুম থেকে উঠলাম
১২ টায়।
আমি কিছু মনে না করে,
গোসল করে ফ্রেস হয়ে পরিক্ষার হলে যাওয়ার জন্য রেডী হলাম।
এই কয়েকদিন এ মিম আমাকে একটুও ডিসট্রাব করে নাই!!
কিন্তু আজকেই তো দেখা হবে মেয়েটির সাথে,
কি যে করে বসে মেয়েটি,
এমনেই মেয়েটিকে দেখলে আমার অতীত এ চলে যেতে হয় আমাকে।
হলে গিয়ে দেখলাম আমার সীটের সামনেই মিমের সীট,
আমি সোহাগ এর দিকে তাকিয়ে,
দেখলাম সোহাগ আর মিম মিটিমিটি হাঁসছে,
তার মানে এখানে কোন কাহিনি করেছে ওরা।
আমি কিছু না বলে সীটে বসে আছি,
এমন সময় সার আসলো,
পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে,
প্রশ্নটা অনেক কঠিন হয়েছে!
সবাই বলাবলি করছে,
কিন্তু আমার মনে হলো ১০০% কমন।
আরে কি ভাবছেন আপনার আমি না
পড়ে কেমনে,১০০% কমন দিচ্ছি,আসলে
আপনাদের তো বলাই হয়নি,আসলে আমি
কোন কিছুই লোক দেখিয়ে করি না!!সবাই
প্রায় ১২ টার দিকে ঘুমিয়ে যেতো,
আর আমি তখন উঠে, আমার টেবিল ল্যাম্প টা জ্বেলে
পড়তে বসতাম!যখন আযান হতো তখন পড়া
শেষ করে, নামাজ টা পড়ে শুয়ে পড়তাম,
আর এর কারনে আমালে কেউ কখনো
পড়তে দেখে নাই।আর আমি ছাত্র এমনিতে
মোটামুটি ভালো আছি!
কারন এসএসসিতে আমাদের জেলার প্রথম
হয়েছিলাম।
তাহলে তে এখন বুঝলেন,
কেমনে ১০০% কমন পড়েছে!
আস্তে আস্তে লিখা শুরু করলাম,
পরিক্ষাটা শেষ হয়ে গেল,
আমার একটু আগেই শেষ হলো।
আমি উঠে দাড়িয়ে, বললাম সার শেষ!!
একজন আমাকে বলে কি হে,
মি: লেইট মিয়া আজকে এতো তারাতারিই,
এতো ফাষ্ট হলেন কিভাবে,কমন পড়ে নাই!!
আর ক্লাসের অনেকেই হেঁসে দিলো।
কেউ একজন পেছন থেকে বললো,
আরে পরিক্ষার দিন ১২:০০ টা পর্যন্ত ঘুমালে
কমন পড়বে কিভাবে!!
আমি কিছু না বলে চুপচাপ চলে আসলাম,
খাতাটা জমা দিয়ে।
এসে বাহিরে বসে আছি,
এমন সময় মিম আর সোহাগ একসাথে বের হলো,
বের হয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসলো,
এসে আমাকে মিম বললো,
কেমন আছো আশিক?
আমি কিছুক্ষন মিমের দিকে তাকিয়ে,
ভালো আছি।
তুমি কেমন আছো?
হুম যেমন রেখেছো!!
আমি আর কিছু না বললাম,
কিরে কেমন আছস রে সোহাগ?
তোর তো কোন খোজ খবর ই নাই?
আরে বলিস না একটু চাপে আছি?
খুব পড়াশোনার চাপ!!!
তাই নাকি ;তা পরিক্ষা কেমন হলো তোর?
হুম বেশি ভালো না।
তোর কেমন হলো?
এইতো হয়েছে কোন রকম।
সোহাগ বললো,মিম তুমি থাকো,
আমার বাসায় একটা কাজ আছে।
আমি চুপচাপ বসে আছি,
মিম বললো,
আশিক আমাকে একটু আমায় বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে
আসবা।
কেনো?
আসলে আমার মাথাটা একটু ঘোরাচ্ছে,
যেকোনো সম পড়ে যেতে পারি।
আমি তখন একটু চিন্তা করে,
বললাম আচ্ছা চলো।
আমি একটা রিক্সা নিয়ে মিমকে নিয়ে ওদের বাসার
দিকে যাচ্ছিলাম,
এমন সময় মিম বললো,
আশিক!
হুম বলো_______
না তুমি যদি রাগ করো?
আচ্ছা রাগ করবো না বলো,
আমি আমার মাথাটা একটু তোমার কাধে রাখি,
আমি মিমের চোখের দিকে তাকিয়ে আর না
করতে পারলাম না।
আমি কিছু বললাম না।
মেয়েটি আস্তে করে মাথাটা আমার কাধে রাখলো!
আমার কি রকম জানি অদ্ভুত
ভালো লাগা কাজ করলো!
আস্তে আস্তে মিমদের বাসায় চলে আসলাম,
মিম মনে হয় ঘুমিয়ে গেছে তাকিয়ে দেখি,
আসলেই ঘুমিয়ে গেছে,
খুব নিষ্পাপ লাগছে মিমকে!
আমি মিমকে আস্তে করে ডাক দিলাম,
এই মিম;মিম,উঠো আমরা এসে পড়েছি।
মিম ঘুম থেকে উঠে কিছুটা লজ্জা পেলো,
আশিক মিমকে রিক্সা থেকে নেমে,
চলে যেতে চাইলো।
মিম বললো,কি হলো কোথায় যাচ্ছো?
কেন কলেজে?
আরে চলো বাসায়,আমাদের বাসায় প্রথম আসলে,
আর বাসায় গেট থেকেই চলে যাবে,
তাহলে তো তোমার শ্বসুড় বাড়ির মান সম্মান ডুবে
যাবে।
কি তুমি কি কিছু বললে,
না, বাসায় চলো?
আমি কিছু না বলে মিমদের বাসার ভিতরে গেলাম।
মিমের আম্মু মিমকে দেখে বললো,
কে?তোর বন্ধু!!
না মা ওই আশিক।
কি বলিস,ওর নাম ই আশিক,
খুব ভালো করেছিস আশিক কে এনে,
ওর সাথে আমার কিছু কথা শুনে,
মিমের মার কথা শুনে আমি কিছুটা অবাক হলাম,
আমার কথা কেমনে জানলো মিমের আম্মু?
আর আমার সাথে কি কথা বলবে?
মিমের আম্মু মিমকে বললো,
মিম তুই একটু উপরে যা,
আমি আশিক এর সাথে কিছু কথা বলবো,
মিম চলে গেল,
আমি ভয় পেয়ে গেলাম, আমাকে আবার কি বলবে?
কি ভাবছো আশিক?
কিছুনা আন্টি!
আসলে বাবা আমি মিমের আম্মু হলেও ওর
একজন খুব ভালো বন্ধু।
মিম তোমার ব্যাপারে আমাকে সব বলেছে।
তুমি ওকে ফিরিয়ে দিয়েছো সেটাও বলেছে।
আসলো আশিক তোমাকে আজকে আমি,
যে কথাটা বলবো,সেটা আমি আর মিমের আব্বু ছাড়া
কেউ জানে না।
আসলে আশিক মিমের ব্রেন টিউমার হয়েছে!!
কথাটা শুনার পর মনে হলো,আমার মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।
আমি কিছুক্ষন চুপ থেকে বললাম,
ডাক্তার কি বলেছে?
ডাক্তার বলেছে অপারেশন করা লাগবো?
50 % সম্ভাবনা ভালো হওয়ার।
তার কারনে আমরা এখন কোন কিছু করতে ভয় পাচ্ছি?
ডাক্তার বলেছে,ওর ব্রেনে যাতে কোন ও প্রকার চাপ না পড়ে।
তাই বলছিলাম,
মিমের কোন একটা ব্যাবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তুমি ওর সাথে
দরকার হলে ভালোবাসার অভিনয় করো?
কথাটা বলে কান্না করে দিলো মিমের আম্মু!
আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেললাম।
কি বলবো আমি,
আমি কিছুক্ষন পর বললাম,
আন্টি আপনি কোন চিন্তা করবেন না,
আমি মিমকে আর কোন কষ্ট পেতে দিবো না,
ও খুব তারাতরিই ভালো হয়ে যাবে!!!!
মিমের আম্মু কান্না করে বললো,
তাই যেন হয় বাবা।
এমন সময় মিম বললো,
আসতে পারি?
মিমের আম্মু চোখের পানি মুছে ফেললো তারাতারি করে!
আমি বললাম আসো,
মিম বললো,আমার আম্মু সাথে কথা বলা শেষ,
আমি বললাম,মায়ের সাথে কি কখনো কথা বলা শেষ হয়!!!
আচ্ছা মিম তোমার ফোনটা দাও তো?
মিম অবাক হয়ে তাকিয়ে এগিয়ে দিলো
ওর ফোনটা!
আমি মিমের ফোন থেকে ওর নাম্বার থেকে আমার নাম্বারে
একটা কল দিয়ে,
ফোনটা ওকে দিয়েদিলাম।
হালকা নাস্তা করে মিমের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম _____________
আজকের মতো শেষ,এই শেষ কিন্তু শেষ না, আরো রহস্য সামনে আসতেছে,,,,,,,,
আসলে গল্পটা একজন কপি করে নিজের নামে চালাচ্ছিলো,
তাই আমি গল্পটা লেখা থেকে বিরত ছিলাম।তাই পর্ব টা দিতে দেরী হলো_____________
তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

1 comment :

  1. আরো নতুন নতুন Golpo পড়তে ভিজিট করুন
    www.valobasargolpo2.xyz

    ReplyDelete